মজিবর রহমানের ছোট গল্প “মানুষ সহজে বদলায় না”

ad

মজিদ ও আসমা এক সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শুনা করে। মজিদ ছিপছিপে হালকা পাতলা গঠনের লম্বা, আসমা মাঝারি লম্বা ফর্সা সুন্দরী। মজিদের আসমাকে ভালো লাগে আসমা মজিদের কোমল হৃদয়ের সংস্পর্শে যেয়ে ভালোবাসবে কি বাসবে না দোদুল্যমানতায় ভোগে,তবে চাকরির বিভিন্ন পরিক্ষা সহ একজন ছেলে বন্ধু থাকা প্রয়োজন তাই বাম হাতে ধরে রাখে ডান হাতে অধিকতর ভালো ছেলে খুঁজতে থাকে।

মজিদ বুঝে তবে প্রেমে অন্ধ ফেরার পথ বন্ধ মনে করে আবেগে সাথে চলে সরওয়ারর্দী উদ্যান বাংলা এ্যাকাডেমী প্রাঙ্গন কার্জন হল রমনা পার্ক সহ ঢাকা শহরের অধিকাংশ সিনেমা হলে বিনোদন করে।আসমার শ্যমকালাচাঁনকে মনের অজান্তেই ভালো লাগে,কিন্তু বিয়ের পরে একত্রে হাটলে সম লম্বা হলে দেখতে কত সুন্দর যুগল হত এ বাসনা ও মনে পোষন করে।

এম এ পরিক্ষার সময় ই ভালো একটি কোম্পানিতে মজিদের চাকরি হয়ে যায়,মজিদ আসমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়,এবার আসমার আসল রূপ বেরিয়ে আসে, সে মজিদ আসমার যুগল ছবি সহ প্রমান ধ্বংসে ব্যস্ত থাকে।মজিদ বুঝে নিজ এলাকার স্বনামধন্য পরিবারের এক সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করে চাকরি করতে থাকে।

আসমা একটি সরকারী চাকরি পায় কিন্তু প্রেমের চোখে মজিদের কাছে সুন্দরী হলেও প্রকৃত সুন্দরী না।কোন ভালো ছেলে জুটে না বেশ ক’য়েক বছর পর প্রঢ গৌড় বর্নের এক ইঞ্জিনিয়ার ছেলে সম লম্বা দেখে বিয়ে করে একটি ছেলে ও হয়।কিন্তু স্বামী হারিজ দুরারোগ্য ডাইবেটিসে ভুগে রতি ক্রিয়া হতে বিরত হয়।একাই ভুয়াপুর জীবন কাটায় আত্মীয় স্বজনের অনেক সহায়তা করে তারা তার সেবা যত্ন করে।

আসমা মনের কষ্টে ছেলে নিয়ে ফরিদপুর শহরেই জীবন কাটিয়ে দেয় ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হয়।

মেধাবী মজিদ চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা সফল হয় ছেলে মেয়েরা ডাক্তার ইঞ্জিয়ার হয়।

আসমা মজিদকে খুব অনুরোধে দাওয়াত দেয় এবং টি এস সি তে নিয়ে সব খুলে বলে তার জীবন গেল জলে।এখন যদি মজিদ তাকে বিয়ে করে তবে বাকী জীবন স্বামী কে ডিভোর্স দিয়ে কাটাবে সুখে শান্তিতে মিলে।

মজিদ তার ছেলের কথা নিজের ছেলে মেয়ের কথা মাথায় রাখার পরামর্শ দিয়ে আপাতত সেদিন বিদায় দেয়।

নিজে নিজে ভাবে নতুন কোন প্রতারনা কিনা পরিক্ষা করা প্রয়োজন। একদিন আসমা ফোন করে ফোন মজিদ রিসিভ করে তার সাথে কথা না বলে এক আশি বছরের বয়রা বৃদ্ধাকে পাশে বসিয়ে বলতে থাকে,কী হবে আমার? আমার ব্যবসায় যে ধ্বস নামলো চাকরির বেতনে সংসার চলে না।

এ পর্যন্ত শুনে সত্য মনে করে আসমা ফোন কেটে দেয়।আর কখনো মজিদের খবর নেয় না।মজিদ শতকোটি বার আসমাকে ফোন দেয় ফোন রিসিভ করে না।পরে জানতে পারে বৃদ্ধ স্বামী ইঞ্জিনিয়ার হারিজচৌধুরীকে নিয়ে ই রতি ক্রিয়ার কথা বাদ দিয়ে ছেলের বিয়ে দিয়ে লোক দেখনোর জন্য ছেলের স্বার্থে সংসার ধর্ম পালন করতে থাকে।

আসলে কিছু স্বার্থপর মানুষ অন্যকে ঠকাতে চেয়ে নিজে ই ঠকে এবং স্বার্থের বেলায় কখনো বদলায় না।

লেখক মোঃ মজিবর রহমান! লেখক ও কলামিষ্ট

সংগ্রহে -সাংবাদিক মফিজুল ইসলাম সৌরভ: মাদারীপুর জেলার স্টাফ রির্পোটার

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.