বৃষ্টিতে জলবদ্ধতা থেকে মুক্তি চায় অসহায় দারিদ্র চাষা কৃষক

ad

যেমন তেমন বৃষ্টিতে জলবদ্ধতা থেকে মুক্তি চায় শ্যামনগর উপজেলার ৫নং কৈখালী ইউনিয়নের অসহায় দারিদ্র চাষা কৃষক উপকূলবাসী।

আলফাত হাসান সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের পূর্ব কৈখালী ও পশ্চিম কৈখালী গ্রামের ১১শ পরিবারের ৫ হাজার মানুষ স্থায়ী জলবদ্ধতার শিকার। দীর্ঘ দুই মাস স্থায়ী জলবদ্ধতার কারণে দেখা দিয়েছে পানি বাহী বিভিন্ন রোগ, এছাড়া প্রায় ১৫ শত বিঘা জমি যাহা সম্পূর্ণ ধান চাষের উপযোগী চাষী জমি।

পত্রিকা একাত্তর সংবাদ সংগ্রহকালে সরজমিনে যেয়ে দেখা যায় সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের, পূর্ব কৈখালী ও পশ্চিম কৈখালী বড় মৌকটলা খালের দুপাশের বাড়ি ঘর ফসলের ক্ষেত সব জায়গায় পানি থইথই করছে। বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট স্থায়ী জলবদ্ধতার নিরসন চান সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের, পূর্ব কৈখালী ও পশ্চিম কৈখালী বসবাস কৃত ধান চাষী ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

পূর্ব কৈখালীর গ্রামের একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, অপরিকল্পিত ভাবে কৈখালী বড় মৌকটলা খাল কিছু ক্ষমতাশীল ব্যক্তিবর্গ অবৈধ দখল রাখায় এলাকার বৃষ্টির পানি বাহির হতে পারছেনা। পানি নিষ্কাশনের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কোনো খালমুক্ত করার ব্যবস্থা নেই, সরকারি কোনরকম উদ্যোগ নেই এসিল্যান্ড অফিসার সহ ভূমি তহিশীলদারের এছাড়া স্থানীয় কয়েকজন বিভিন্ন মহলে খালমুক্ত করার জন্য দরখাস্ত অভিযোগ দায়ের করেন কিন্তু কোনো সুফল পায়নি এলাকাবাসী। খাস খাল দখল ও এই জলাবদ্ধতার অন্যতম করাণ।

পশ্চিম কৈখালী গ্রামের খোকন গাজী বলেন, বৃষ্টির পানি বাড়ি ঘরে রাস্তাঘাটে ফসলি জমি নষ্টের দিকে ধাবিত হচ্ছে। পানিতে ডুবে গেছে রান্নাঘর, গোয়াল ঘর। ছেলে মেয়ে স্কুলে যাচ্ছে এই পানি ঠেলে। আমরা এর পতিকার চাই।

পূর্ব কৈখালী মোঃ রশিদ বলেন আমরা স্থায়ী জলবদ্ধতার মাঝে দিনাতিপাত করছি। বাড়ির উঠানে হাঁটু পানি। জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের ফসলাদি আমন ধান পঁচে গেছে। পরিবারের সদস্যদের পানি বাহীত বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে। চুলকানি, পাঁচড়া, আমাশয় আক্রান্ত সবাই। একই এলাকার আব্দুল হামিদ বলেন আমাদের দেখার কেউ নেই। হাঁটু পানির মধ্যে বসবাস করছি দুই মাস ধরে জমিতে ধানগুলো সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পশ্চিম কৈখালীর এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সিদ্দীক গাজী বলেন, বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট স্থায়ী জলবদ্ধতার নিরসন চাই। এব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা ও করেন তিনি।

কৈখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম বলেন,বড় মৌকটলা খালটি কিছু প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় পানি সরার জায়গা না থাকায় এই স্থায়ী জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে অবহিত করাহয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি অতি দ্রুত এই বড় মৌকটলা খালটি মুক্ত করতে হবে ,এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ জানিয়েছে সাধারণ অসহায় কৃষক চাষী উপকূলবাসী।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.